মুহাম্মদ-আবিদ-আলী
কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  ভায়না,  ভায়না (গ্রাম),  মাদ্রাসা,  লেখক পরিচিতি,  শিক্ষকবৃন্দ,  শিক্ষাবিদ,  সাহিত্য

মোহাম্মদ আবিদ আলী (১ম পর্ব)

মোহাম্মদ আবিদ আলী (১ম পর্ব)

 

মোহাম্মদ আবিদ আলী (১৯০৪-১৯৮৭ খ্রি.) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও লেখক।

জন্ম: মোহাম্মদ আবিদ আলী ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত ভায়না ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবন: পিতা মুন্সি মিয়াজান মল্লিক ও মাতা বুলুজান নেছা। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মোহাম্মদ আবিদ আলী ছিলেন সবার বড়। মোহাম্মদ আবিদ আলী, এম. আকবর আলীমোহাম্মদ আবদুল জব্বার এই তিন সহোদর যেন একই বৃত্তে তিনটি ফুল। তাঁদের জন্মদায়িনী মা ‘রত্নগর্ভা’ জননীর সম্মানে ভূষিত। পিতা মিয়াজান মল্লিক প্রথম জীবনে মাঝি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বাধীনভাবে ছোট ছোট ব্যবসা শুরু করেন এবং এই ব্যবসার সীমিত আয় দিয়েই সংসার চালাতেন।  পিতা এবং মাতা উভয়েই ছিলেন বিদ্যানুরাগী।

শিক্ষা জীবন: মোহাম্মদ আবিদ আলীর জন্মকালে সুজানগর উপজেলার গোপালপুরে কোনো স্কুল ছিল না। নীলমণি ঋষির কাছেই তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি। তাঁর নিজগ্রামে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে পাঠশালা বসলে সেখানে ভর্তি হন। পাঠশালার হেডপণ্ডিত শশী ভূষণ দাস মেধাবী আবিদ আলীকে বৃত্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেন। বৃত্তি পরীক্ষায় আবিদ আলী জেলার সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হয়ে মাসিক দুই টাকা বৃত্তি লাভ করেন এবং স্কুলে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পান। এম. আকবর আলীমোহাম্মদ আবদুল জব্বারকেও হেডপণ্ডিত পাঠশালায় বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেন।

আরও পড়ুন সুজানগর উপজেলার প্রথম এমএ পাশ মাওলানা রইচ উদ্দিন

সুজানগর মাইনর ইংলিশ স্কুল থেকে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর গ্রাম ছেড়ে পদ্মানদীর ওপারে রাজবাড়ি জেলার পাংশার বোয়ালমারি জর্জ একাডেমিতে ভর্তি হন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ৪টি লেটারসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে আইএ ভর্তি হন। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ শ্রেণিতে ৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আবেদ আলী প্রথম বিভাগে মেধানুসারে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর কলকাতায় নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে বিএ পাস এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে আরবিতে প্রথম শ্রেণিতে এমএ পাস করার গৌরব অর্জন করেন।

কর্ম জীবন: দিনাজপুর ফারসিপাড়া মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগদানের মাধ্যমেই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। বগুড়াসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুলে চাকুরির পর ঢাকা শিক্ষা অফিসে এডিপিআই পদে অধিষ্ঠিত থেকে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি সৎ ও ধর্মপরায়ণ মানুষ ছিলেন। তিনি কর্মবহুল জীবনের মধ্যে নিমজ্জিত থেকেও সাহিত্য চর্চা করে গেছেন। 

প্রকাশনা: তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো: 

  • হাদিসের গল্পগুচ্ছ
  • কোরানের গল্পগুচ্ছ ওসয়াতুল হাসনা 
  • চালাকি 
  • আমাদের জৈন ইত্যাদি 

মৃত্যু:  মোহাম্মদ আবিদ আলী পক্ষাঘাত রোগে শয্যাশায়ী হয়ে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

 

তথ্যসূত্র:

সুজানগরের ইতিহাস, ড. আশরাফ পিন্টু

আরও পড়ুন মোহাম্মদ আবিদ আলী-
২য় পর্ব

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

মোহাম্মদ আবিদ আলী (১ম পর্ব)

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!