কবিতা,  পথিক জামান,  সাহিত্য

মাছ-বিল-পাখি-পদাবলি

মাছ-বিল-পাখি-পদাবলি

পথিক জামান

 

বিল আমাদের গর্বের ধন,
বুক ভরা ভালোবাসা,
জীবন জীবীকার প্রধান উৎস
জানে গাজনার চাষা।

 

এ পাড় থেকে ওপাড় শুধু
মাঠ ভরা সোনা ধান,
কৃষককুলের বুক ভরা সুখ,
মুখভরা হাসি গান।

 

শত শত বিল এই খানে আছে
হিসেব মেলানো ভার,
কিছু কিছু আমি নাম ধরে ধরে
বর্ণনা দিব তার।

 

সহিবাজ আর গমগাড়া বিল
গ্রামের পূর্ব দিকে,
পারলে তুমি এই নাম গুলো
ডায়েরিতে নিও লিখে।

 

রামার বিলের কইমাছ গুলো
ইয়া বড় বড় হতো,,
হাজার মাছের ভাণ্ডার বিল
বর্ণনা দিব কত?

 

বোয়াল-বেলে টাকি আর শোল
নয়না চাপলে পুঁটি,
যতটুকু পারি কষ্ট করে
বলে দিব মোটামুটি।

 

নওলা-কাতল খলশে চাঁদা
বিল ভরা ছিলো চেলা,
আশ্বিন মাসে এ সব মাছের
দেখেছি রঙিন খেলা।

 

গজার মাছের বাহার ছিলো
গজারিয়া সোনাতলা,
চিংড়ি চাঁদায় ভরা ছিলো
গমগাড়া মোষেখোলা।

 

কাঁকলে মলা সরপুঁটি আর
টাটকিনি রুই বাছা,
শুটকি করে ভরে রেখে দিত
শুটকি মাছের মাচা।

 

ছ্যাপখাই আর মওসী মাছের
বিলছিলো টাকিগাড়া,
মাছের নেশায় রাত জেগে জেগে
চোখ হতো ঘুম হারা।

 

পাঙ্গাশ বাঘার,শিং আর কই
চ্যাং ফলি রূপচাঁদা,
রোজ রোজ মেরে বাড়ি ফিরে আসি
সারা গায়ে মেখে কাদা।

 

পাবদা পোয়া মাগুর বাইম
তাপসে কোরাল বাটা,
পটকা ফাসা টেংরা চিতল
খরশলা তিন কাঁটা।

 

মাইট্যা আইর প্রজাপতি আর
মাছ ছিলো গরুপিঙে,
জাংলা ভরা কুমড়া ছিলো
আনাজ উচ্ছে ঝিঙে।

 

কাল বাউশ আর ঘনিয়া মাছের
ঝল খেতে ভারি মজা,
মাছ বেচে বেচে কখনো খেয়েছি
গরম গরম গজা।

 

সাদা পোয়া আর বাতাসী মাছের
চচ্চড়ি কি-যে স্বাদ,
এখন পেলে সে সব খেয়ে
হয়ে যাবো উন্মাদ।

 

ডহার বিলের ট্যাপা মাছ
আর সোনাদিঘিয়ার রায়েক,
এসব মাছের খবর রাখেনা
বিজ্ঞ জাকির নায়েক।

 

সোনাপাতিলিয়া মুন্সীডাঙ্গি
জেলেপথ কালীদহ,
এত বিলের নাম শুনো নাই
তোমরা যতই কহ।

 

বাঁশতালুক, গোড়ারভিটা
আর ঘুঘুদার বিল,
হাতিগাড়া ঘাটপাড়
সূর্যদিঘির ঝিল।

 

গ্যারকার বিলে কাঁকড়া ভরা
ধুলোট ভরা শামুক,
বর্ষাকালে এসব বিলে
হাসে শাপলা শালুক।

 

দিনে রাতে নানান পাখির
হচ্ছে মিলন মেলা,
বকপাখি আর মাছরাঙার
মাছ নিয়ে হয় খেলা।

 

কইজুরি আর কাঁচিচুরা
ঘুঘু সারস চিল,
সূইচুরা আর ফেচকে পাখি
চষে বেড়ায় বিল।

 

অকটিটি আর ইটে ভারুই
ভরত শালিক হাঁস,
বেলেহাঁসের জলে ভাসা
দেখবে বার মাস।

 

বাবুই পাখি ময়না টিয়া
ডাহুক কুররা কুয়া
সন্ধ্যে হলে বিলের ধারে
শিয়াল হুককা হুয়া।

 

হাঁড়িচাচা হলদে পাখি
পেঁচা চাতক কাক,
ভোরবেলাতে শুনতে পাবে
নানান সুরের ডাক।

 

দোয়েল কোয়েল কাঠঠোকরা
বাঁশপাতি বুলবুলি,
শঙ্খ শালিক ময়ূর কন্যা
নাচে পেখম তুলি।

 

বউকথাকও কানাকুয়া
টুনটুনি ফুলঝুরি,
এসব পাখির খবর রাখে
পাশের বাড়ির বুড়ি।

 

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!