ছড়া,  সাহিত্য

মধু মাস, বাদাইর জোলা, মেহের আলী, সব শ্রমিকের গড়া

মধু মাস

মো. শরিফুল ইসলাম

 

জৈষ্ঠ্য মাস মধু মাস
গাছে পাকে আম,
সবুজ পাতার ফাঁকে আছে
কালো পাকা জাম।

কাঁঠাল পেকে সুবাস ছড়ায়
মৌ মৌ করে বাড়ি,
লিচু পেকে টকটকে লাল
গাছে সারি সারি।

তালগাছে তাল ধরেছে
খাইতে লাগে ভারী,
পেয়ারা গাছে বের হয়েছে
নতুন নতুন কুড়ি।

লেবু,কলা,আতা আনারস
খাইতে লাগে বেশ,
মধু মাসে ফলে ঘেরা
আমার বাংলাদেশ।

 

বাদাইর জোলা
আমাগরে বাদাইর জোলায়
আইছে নয়া পানি,
রাহাল বেটা পার হচ্ছে
গরুর লেজ টানি।
নয়া পানি দেখে বিটীরা
আইছে জোলার ধারে,
ছাওয়ালপাল সব লাচ্ছে দেহো
একটু পরে পরে।
জালিরা সব মাছ ধরবে
করছে নাওয়ের যতন,
গাসুরিয়া ঘাস মাথায়
করেছে বাড়ি রওন।
এপার থেকে ওপার যাচ্ছে
মানুষ সাঁতার পাড়ি,
নৌকা নিয়ে দিচ্ছে কেহো
মানুষ পারাপার করি।
মেহের আলী
আমারে পাড়ার মেহের আলী
মাঠে খাটে রোজ,
পান্তা ভাত আর কাঁচা মরিচ
করেন তিনি ভোজ।
সকাল বেলা যায় সে মাঠে
সন্ধ্যায় ফেরে বাড়ি,
কালো বর্ণ চেহারা তার
মুখে ছাগল দাড়ি।
মানুষ তিনি বোকা সোকা
নেইকো মনে দোষ,
ধার ধারেনা কারো তিনি
খেটে খাওয়াই জোশ।
কামায় রুজি যাহা করে
বউ পোলাপান খায়,
নিত্য তিনি মনের সুহে
মধুর গান যে গায়।
সব শ্রমিকের গড়া
ও বাবুসাব বলোনা মোরে কেমনে হয় ঐ বাড়ি
শক্ত হাতে গড়তে বাড়ি কে মারে কুঠুরি,
প্রতিটি ইটের কণায় কণায় কার নাম ওঠে ভেসে
কার শরীরের রক্ত ফোটা দেওয়ালে আছে ঘেঁসে?
কে গো বলো ইট পাথরে বালু মিক্সার করে
কে বা বলো তোমার জন্য অট্রালিকা গড়ে,
কখনো কি তুমি ভেবে দেখেছো ঐ প্রাসাদে শুয়ে
কেমনে এথায় ঘুমায় আমি নিশ্চিন্ত নিরালয়ে!
দিয়েছো কি তার ন্যায্য মূল্য ঘামের ফোটার দাম
না কি শুধু বুঝিয়ে নিয়েছো তোমার ও স্বার্থ কাম,
তোমার জন্য যে জন গড়িলো এমনও স্বাদের ঘর
স্বার্থ উদ্ধার করিয়া তুমি কেনো তাদের করো পর?
এ কেমন বিচার করিলা বলো না বাবুসাব তুমি মোরে
একটি ইট জোড়া লাগাতে কতো ঘাম যায় ঝরে,
বিবেক তোমার কবে বলো দিবে যে শুদ্ধ নাড়া
না কি তুমি অন্ধ রবে শ্রমিক যাবে তবে মারা?
শোন হে বাবু সাব বলি তোমারে শোন দিয়া মন
শ্রমিক যদি অনাহারে মরে ভেঙে যাবে তোমার উন্নয়ন জাগরণ,
তোমারও পেটে ভোখ লাগিলে খাদ্য পাইবা না
গোসলে তুমি ঝর্ণার পানি সেটাও আসবে না।
গরু থাকবে না গোয়ালে দুধ দিবে না কেহ
সুস্থ শরীর রোগা হইবে ঠনঠনে হবে দেহ
তোমার ও পরনে পরিয়াছো যে বাহারি পোশাক
সেটাও আর আসবে না কো যদি না ফসল ফলাই চাষা।
উলঙ্গ তোমাদের থাকতে হবে পাইবা না পরনে কাপড়
হিসাব করিয়া চলিও তুমি, মেরো না শ্রমিকের থাপ্পড়,
চলছো তুমি যে গাড়িতে জানো ওটা কার গড়া
যে জুতো তুমি পায়ে দিয়ে চলো হয় না তাও শ্রমিক ছাড়া।
প্রভু দিয়েছেন ছন্ন ছিটিয়ে, শ্রমিক দিয়েছেন জোড়া,
যা পাচ্ছো তোমরা হুকুমে হুকুমে, হয় না তো শ্রমিক ছাড়া।
যা পড়ছো যা গড়ছো সবি তো শ্রমিকের ঘাম
পেতে যদি চাও, তবেও শুনে নাও, শ্রমিকের দাও সঠিক দাম।
আরও পড়ুন ছড়া-
মাকে মনে পড়ে
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
রোদ বৃষ্টির খেলা
মায়ের আদর
ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে
Facebook Comments Box

মো. শরিফুল ইসলাম ছড়া ও কবিতা লেখেন।তিনি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের দুড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!