ফেরা-হয়-যদি-আবার
কবিতা,  পূর্ণিমা হক,  সাহিত্য

ফেরা হয় যদি আবার, ভেতরবাড়ির মাঠ, অথচ মানুষ

ফেরা হয় যদি আবার

পূর্ণিমা হক

 

ফেরা হয় যদি ছেলেবেলায় আবার ঘাসফুল হয়ে রবো বুনোলতার ছায়;
মাথার উপরে শরতের চাঁদ হিল্লোলিত সারাক্ষণ নিঃশঙ্ক হাওয়ায় ভেজা রাত,
পত্রপুটে রেখে দেবো মায়ার শরাব।

ফেরা হয় যদি আবার ধুলোমাখা মলিন বসনে-
কুড়াবো বকুল,পলাশ, শিমুল কোচাভরা পাকা পাকা কুল,
রাঙাবো আলতা পায়ে, পরে নেব কলাপাতা নূপুর।

ফেরা হয় যদি পেছনের তামাটে জীবন ভুলে কাটবো সাঁতার শাপলাফোটা বিলে
স্মৃতিকুড়ানী হবো, ঘুরে ঘুরে চেনা প্রান্তরে গাইবো দুঃখ ভোলানিয়া গান
কোকিলের মধুক্ষরা স্বরে।

ফেরা হয় যদি আবার নিস্তব্ধ রাতের প্রার্থনায় স্রষ্টার কাছে মিনতি রেখে
মৃত্যুপুরীর রোজনামচা থেকে কেটে নেবো বাবার নাম!
নির্ভার হাতটি ধরে হেঁটে হেঁটে চলে যাবো আমাদের বাড়ী।

আরও পড়ুন কবি পূর্ণিমা হকে কবিতা-
আসবো ফিরে
মল্লিক বাড়ির চাঁদ
দহন দাবানল

 

ভেতরবাড়ির মাঠ

সময়ের পাঠে নিজেকে গোটাতে শিখেছি শামুকের মতো স্বভাবজাত প্রত্যয়ে,
শিল্পিত হাহাকারে পুড়ে যায় ইদানিং আমার ভেতরবাড়ীর মাঠ,
যাপনের সবুজ খেত, জীবন-লাবণি;
চেতনার ঘরে নেই মোলায়েম রোদ।
কিছু দীর্ঘশ্বাস মানুষের একান্ত কিছু স্মৃতি নিজস্ব,
এইযে বেঁচে থাকা, অভিনয় জীবনের এতো এতো এন্টারটেইন
গল্পের ভেতর তুমি-আমি’র উপাখ্যান নিজেকে আড়াল করবার এতো যে কৌশল;
দিনশেষে দাঁড়াতে ভয় হয় বিদীর্ণ বুকের আয়নায়-
অতৃপ্ত আত্মার বিকৃত প্রতিচ্ছবিরা কেবলই তিক্ততার বিষ ছড়ায়।
শিল্পিত হাহাকারে পোড়ে আমার ভেতরবাড়ীর মাঠ, ভালোবাসার অরণ্য।
নির্বাক চোখে দেখি-
একরাশ দীর্ঘশ্বাসের দহন আমায় আরো নিঃস্ব করে দেয়!

 

অথচ মানুষ

পৃথিবীর মঞ্চে আজ নিপীড়িতের কোরাস দুর্দিনের দীর্ঘশ্বাস,
আকাশ সামিয়ানায় উড়ছে কতো প্রবঞ্চণার আর্তনাদ
অথচ পৃথিবী সাজছে রোজ!
শোষকের অধিপতি হয়ে নিঃস্বের নিঃস্বতা নিংড়ে।
জীবনের কাছে নতজানু জীবন ফেরি করে শ্রম-ঘাম, বেঁচে থাকবার অহম।
অলি-গলি প্রান্তরে বুভুক্ষের মিছিল
ছেঁড়া আস্তিনে জড়ানো শীর্ণ শরীর,
ক্ষুধার হাহাকার মিনতিভরা বাড়ানো দু’হাত
আজও ভাঙতে পারেনি বৈষম্যের দেয়াল
অথচ পৃথিবী সাজছে রোজ!
ভেদাভেদের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে কাতর চোখ,
পাখিদের কানাকানি, কাকের কর্কশ প্রতিবাদ।
অথচ আমরা মানুষ! বিবেকের কাঠগড়ায় বোবা মানুষ।
শুনেছি মাতালের থাকে না বিবেক-বোধ
পৃথিবীর সব নিঃস্ব মানুষ তবে মাতাল হোক
ভুলে যাক যাপনের আজন্ম শোক!!

আরও পড়ুন কবিতা-
তিতাস নদীর পাড়ে
কবি ও কবিতা
বাংলার কৃষক

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি বিকাশ এবং সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আমাদের সুজানগর’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক। তিনি ‘আমাদের সুজানগর’ ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। এছাড়া ‘অন্তরের কথা’ লাইভ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালি ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!