পদ্মা
কবিতা,  খোন্দকার আমিনুজ্জামান,  সাহিত্য

পদ্মা, বিবেক, গহন রাত, ইন্ট্রোভার্ট

পদ্মা

খোন্দকার আমিনুজ্জামান

 

হাত বাড়ালেই পদ্মা আমার প্রিয় নদীর নাম
নদী ভাঙা গড়ার খেলা খেলে খেলে অবিরাম।

তার ভালো লাগে খেলা
ভালো লাগে ফুল ফল ফসল কাশফুলের দোলা
তাই তো জীবনভর উর্বর পলি চারিদিকে ছড়ায় অবিরাম।

তার ভালো লাগে চলা
সমুদ্র পথে চলে দেখে ইলিশের দুরন্ত উজান চলা
তাতে এলে স্বাদ স্বাস্থ্য বাড়ে বাড়ে ইলিশের দাম।

ভালো লাগে গাঙচিল
ভালো লাগে শাখা নদী খাল বিল
এদের পেট ভরিয়ে তবেই সে ছোটে উদ্দাম।

পদ্মা নদী
নৌকা লঞ্চ স্টিমার চলে নিরবধি
এজন্য দিতে হয় না কোনও দাম।

তার যৎসামান্য নেওয়া
অনেক অনেক বেশি দেওয়া
তবুও মানুষ করে অনাচার অবিরাম।

আরও পড়ুন খোন্দকার আমিনুজ্জামানের কবিতা-
জ্যোৎস্না
দিন চলে যায়
হয়ে গেল

 

বিবেক

কবিতা গানে ঢেলে দিতে হয় হৃদয়
বিবেকের দংশনে যা নির্মিত হয়।

যাত্রার বিবেক বার বার গতিধারা ঘুরিয়ে দেয়
প্রতিটা বাঁকে বিবেক জনতার অভিবাদন নেয়
অবশেষে সবকিছু হয়ে যায় মনময়।

নাটক সিনেমায় নায়ক-নায়িকা পথ দেখায়
বিবেকের দংশন সুন্দরের উন্মোচন ঘটায়
তাই তো এই দুইয়ে মানুষ ঝুঁকে রয় ।

যেখানে বিবেকের দংশন অনেক বেশি প্রয়োজন
সেই সমাজ রাজনীতি আজ করছে দুষ্টের লালন
দেখেশুনে বড়ো বেশি বিব্রত হতে হয়।

রাজনীতির চলমান ধারা ভাঙতে বিবেক উঁচিয়ে
আয় সবে ছুটে আয়
নদীর স্রোতের মতো সময় যে বয়ে যায়
সম্মিলিত প্রতিরোধের নাই কোনও ভয় সংশয়।

 

গহন রাত

চারিদিকে আহারে কী বাহার জ্যোৎস্না
দু-চোখ স্বপ্নে ভরা ঘুম আসে না।

গহন রাতে হাতে হাত রেখে
সোনালি ধানখেত আসি দেখে
চির প্রিয় বধূ চলো না।

স্বপ্নের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে
আজ দুটি প্রাণ যায় হারিয়ে।

প্রসন্ন বাতাসে ধানের শীষ দোল খায়
সোঁদা সোঁদা গন্ধে মনটা ভরে যায়
এই যে মায়াবী আবেশ আহা কোনোদিন ভোলা যাবে না।

 

ইন্ট্রোভার্ট

নয়নে রাখিলে নয়ন নয়নের ভাষা বুঝা যায়
কথার পৃষ্ঠে বলিলে কথা আসল কথা শোনা যায়।

আমি ইন্ট্রোভার্ট একা একা পুড়ে মরি
নিজেই নিজেকে টেনে ধরি
শিরদাঁড়া তুলে কিছু বলবো বলে নিজেরই পা পিছু হেঁটে যায়।

ভয় হয় লজ্জা হয়
পাছে লোকে কিছু কয়
এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুলো বালুচরে আমার দু-চোখ নিমীলিত হয়ে যায়।

অবশেষে মনের কথাগুলো লিখিলাম কাগজের পাতায়
বার বার তা দিতে চেয়েও দিতে পারিনি হায়
অথচ হালটের পাশে ফেলে দেওয়া সেই চিঠির
জবাবে আমার মনে আনন্দের বান বয়ে যায়।

আরও পড়ুন
আমার জন্মভূমি
কবে আমার হবি?
উন্মুক্ত হলো বৃত্তাবদ্ধতা

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

পদ্মা

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!