কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

এক জোড়া আয়ত চোখ

এক জোড়া আয়ত চোখ

ফজলুল হক

 

কফিনটা খোলা হলো
ডুকরে কেঁদে উঠলো টুঙ্গিপাড়ার মাটি!
তখনও নেতার শরীর হতে রক্ত ঝরছিলো,
যেনো একটি মানচিত্রের ক্ষত-বিক্ষত ব্যবচ্ছেদ!
সেদিন দীর্ঘতর হয়েছিলো অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর মিছিল,
কলংকিত ইতিহাসের রসদ জুগিয়ে
লাল-সবুজের পতাকা ঘিরে ক্ষমতালিপসু কিছু শকুনের অকৃতজ্ঞ উল্লাস।
একজোড়া নিথর আয়ত চোখ
আজও যেনো চেয়ে আছে চেতনার পথজুড়ে,
চোখের ভাষায় বলছেন কথা
শপথ ভেঙো না কেউ।
ছয়চল্লিশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে
এখনও আঁচড় কাটে মানচিত্রে,
স্বাধীনতার শরীর থেকে রক্ত ঝরে থেমে থেমে
জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের কালো থাবায়,
এ দায়,এ লজ্জা কী শুধুই সার্বভৌমত্বের!
কোথায় স্বাধীনচেতা দেশ প্রেমিকের দল
হৃদয়-বিবেক কি জেগে উঠবে না?
নেতা কি আর একবার আহ্বান জানাবে না?
রুখে দাঁড়াও বাঙালি, তোমরা নও ভীত সন্ত্রস্ত
তোমরা-ই তো প্রতিবাদ প্রতিরোধের বজ্র কন্ঠস্বর।
হ্যাঁ,রেসকোর্স ময়দান থেকে যেনো
নেতার কণ্ঠে উচ্চারিত বিপ্লবী শব্দগুলো আজও বাতাসে ভেসে ভেসে আসে।
এবার সত্যিই জেগেছি আমরা
মানচিত্র হবে অপছায়া মুক্ত,
স্বাধীনতার সূর্যও ছড়াবে উষার আলো ঝলমল।
প্রতিবাদের সমাবেত কণ্ঠে বাংলার আকাশে-বাতাসে অবিরত ধ্বনিত হবেই হবে
জয় বাংলা, বাংলার জয়।

 

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

এক জোড়া আয়ত চোখ

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!