আনন্দ-বাগচী
লেখক পরিচিতি,  সাগতা,  সাহিত্য,  হাটখালী

আনন্দ বাগচী (শেষ পর্ব)

আনন্দ বাগচী (শেষ পর্ব)

 

শেষ পরিণতি: ত্রিলোচন কলমচী বা শ্রীহর্ষ ছদ্মনামে যিনি লিখে গেলেন একের পর এক নিবন্ধ কিংবা ‘কানামাছি’, ‘মুখোসের মুখ’, ‘বনের খাঁচায়’, ‘চকখড়ি’ র মত একাধিক উপন্যাস এবং যিনি ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার অন্যতম কিংবা দীর্ঘদিন ‘দেশ’-এর মত বিপুল প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকায় যুক্ত ছিলেন সেই আনন্দ বাগচীকেও আমরা মিশে যেতে দেখলাম সমকাল থেকে শূন্যে। অর্থাৎ শাশ্বত বলে সত্যিই কিছু নেই। অনেকের ধারণা ‘বিস্মৃতি’ নামের শব্দটা লিটিল ম্যাগের লেখক কবি কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাওয়া অপ্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যিকদেরই একমাত্র ললাট লিখন কিন্তু আনন্দ বাগচীর মত প্রাতিষ্ঠানিক একজন বহুকলমীর ধীরে ধীরে একটানা জ্বলতে থেকে আকস্মিক ফুরিয়ে যাওয়া যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় ক্ষণকালের জড়ত্ব অতিক্রমী কেউই নন।

পাবনার সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের  সাগতা গ্রামে জন্ম তাঁর আর মৃত্যুর সময় ছিলেন ওপার বাংলার হালিশহরে। আশি বছরের সামগ্রিক জীবনে এপার ওপার দু বাংলারই আজ হয়ত কেউ কেউ তাকে ঔপন্যাসিক কিংবা জমজমাট কিশোর সাহিত্যশ্রষ্ঠা হিসেবে কখনও সখনও স্মৃতিচারণা করেন, কিন্তু  কজন মনে রাখেন এই আনন্দ বাগচীর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়েই ! বাংলা কবিতার আলোচনা প্রসঙ্গে কজনই বা উদ্ধ্বৃত করেন তাঁর অমোঘ পংক্তিদের! যেখানে আঁকা আছে একটি একা মানুষের ছবি , যে রাত জেগে পড়া করে লন্ঠনের স্তিমিত আলোয় আর পাখির বাসার মত ঘরে লুকিয়ে রাখে অস্তিত্বের চিরকালীন অনুনাদগুলি। 

আরও পড়ুন কবি আদ্যনাথ ঘোষ

হয়ত আনন্দ বাগচীর বিস্মৃতপ্রায় এসব কবিতার কাছেও যোগ্য পাঠক ফিরে ফিরে আসবে একদিন নতুন অনুসন্ধান নিয়ে নতুন পূনর্মূল্যায়ন নিয়ে। হয়ত সেদিন ভুল প্রমানিত হবে কবির নিজেরই পংক্তি- “তোমার ভেজানো দরজা ঠেলে/ কেউ আসবে না,বোকা, কেউ কি নিজের কাজ ফেলে/ খেয়ালের কথা রাখে?” 

মৃত্যু: কবি জীবনের শেষ দিকে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে চলশক্তিহীন অবস্থায় হালিশহরের বাড়ীতে আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতেন । তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার শেষদিকে এই কবিকে আড়াই হাজার টাকা সরকারী অনুদান দেবার কথা ঘোষণা করে। তিনি ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ৯ই জুন কল্যানীর এক বেসরকারী নার্সিংহোমে প্রয়াত হন।

আরও পড়ুন আনন্দ বাগচী
১ম পর্ব
২য় পর্ব
চকখড়ি উপন্যাস রিভিউ

তথ্যসূত্র: 

✔কালি ও কলম, বাক পত্রিকা, মিলনসাগর

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

আনন্দ বাগচী (শেষ পর্ব)

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!