আত্মবিরহ
কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

আত্মবিরহ; ভোর হয়,আবার অন্ধকার নামে

আত্মবিরহ
ফজলুল হক

 

বাতাসে দীর্ঘশ্বাস
কেটে গেলো হৈমন্তিক পূর্ণিমা রাত,
প্রেমহীন নগর প্রাচীরে ভোরের অপেক্ষা
খাঁচাবন্দী সূর্যটা উঁকি দিয়ে যায়
আঁধারের চাদর সরিয়ে,
মনের দেয়ালচিত্রে ভেসে ওঠে
স্বপ্ন ভাঙার কতো যে বিবর্ণ ছবি!
এ যেনো ওবেলার নিখাদ ভালোবাসার নিস্ফল আত্মসমর্পণ।

বেখেয়ালি বাতাসের ঝাপটায় ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের ঘর
অবিশ্বাসের ঝর্ণা জলে ভেসে যায় প্রেমালংকারে গড়া স্বপ্নতরী
বৃথাই চেয়ে থাকে কিছু প্রাণ ব্যথার রক্তাক্ত দেয়ালে
পরাজিত ক্লান্ত মানুষের মতো,
যেখানে ভোরের আলো ফোটে না স্বাভাবিক নিয়মে
সূৃর্যও ওঠে না প্রত্যাশার সূচনা সংগীত নিয়ে;
মিষ্টি অনুভূতিগুলো শুধুই অভিসার খোঁজে
বিরহের রং তুলিতে আঁকা অন্ধকারের গভীরে,
এর নামই হয়ত ডুবতে ডুবতে বেঁচে ফেরা।

দূরত্বের চেয়ে দূরে
অন্ধকারের চেয়েও আড়ালে ঢেকে রয়
জীবনের চেনা সব অলিগলি,
কাদাজলে ডুবে রয় প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি
নদীর স্বচ্ছজলেও মনে হয় দুষণের দাগ,
সবই যেনো আলো-আঁধারে পাতানো খেলার মতো
ইচ্ছে করেই কী হেরে যাওয়া!

আরও পড়ুন ফজলুল হকের কবিতা-
প্রশ্ন তোমাকে
নিরবতার খোলস ভেঙে
ভালোবাসার সন্তর্পনে

 

ভোর হয়, আবার অন্ধকার নামে

জীবন-ইশতেহারে অস্বীকৃত অঙ্গীকারগুলো

কুসুমপ্রিয় ভোরের বেলকনিতে বিষণ্ন প্রতীক্ষায়,
কী এক অব্যক্ত অনুনয় মৌন্যতার সহজ সন্ধানে!
মন-টবের হলদে পাতাগুলো খসে খসে পড়ছে…
কে করবে অনুস্বাক্ষর?
পদধ্বনির মৃত আওয়াজ প্রকৃতির গায়ে সেঁটে আছে অনাড়ম্বর,
যেনো কতকাল এ পথে কেউ হাঁটেনি;
নামাল চোখে কথা না রাখার দৃশ্যকাব্য
জীবনের পাণ্ডুলিপি পোড়ে বঞ্চনা আগুনে।
ব্যথার অর্থান্তর ঘটে যায় রহস্য আরোপণে
প্রকৃতির প্রশান্ত রুপ যেনো ঝরে পড়ছে প্রণয়হীন সংলাপের মতো।
প্রতীকী ভালোবাসা ঘৃণার পাত্রে বুঁদ হয়ে ভাসছে,
যেনো বজ্রনির্ঘোষের প্রতীক্ষা
কে দেবে স্বীকৃতি?

অনাস্থায় ফিরে গেলো দিঘল সময়।
নিদ্রি রাতের মতো তুমিও আচমকা শিশিরভেজা ভোর দেখো শিউলি তলে
রেণু হরণ করে নীল প্রজাপতি,
বোকা পূজারি নির্যাসহীন ফুলের পসরা সাজায় প্রেম বেদিতে।
নিশিথের নির্ঘুম ব্যধির মতো
কষ্টের সাতকাহন লেখায় থামেনি বিনিদ্র কলম,
কে হবে সাক্ষী?
নিজেকে মানুষ ভাবতে
কোনো লজ্জা নেই
সাঁঝঘরে পিদিমের আলোয়,
এই তো বেঁচে আছি এখনো
ডানাভাঙা ঘাসফড়িংয়ের জীবন-পাঠে,
কথাগুলো গল্প হয়ে ওঠে চিত্তের ঘোলাটে পাতায়।
লতিয়ে ওঠা অবিশ্বাসের ঢেউয়ে ভেঙে যায় প্রণয়-নদীর নরম পাড়,
কী দণ্ড দেবে বিবেক আদালত?
সময় বদলায়,প্রকৃতি সাজে ভিন্নতার স্বাদ-আবরণে
মানুষও অনুকরণীয়,
তবুও কারো নাম লেখা হয়,লেখা থাকে হৃদয়ের সুমিত ধারায়।
ভোর হয়
আবার অন্ধকার নামে!

আরও পড়ুন
 স্বাধীনতার সাধ
ন্যায়ের যুদ্ধ
ঘুমিয়ে আছো

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

আত্মবিরহ

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!