ড.-এ-বি-মির্জ্জা-মোঃ-আজিজুল-ইসলাম
আহম্মদপুর,  কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  গবেষক,  দূর্গাপুর (আহম্মদপুর),  লেখক পরিচিতি,  শিক্ষাবিদ,  সমাজসেবক

ড. এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম

পাবনার বরেণ্য সন্তান ড. এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ, পরিকল্পনা, বাণিজ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলামের প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার যে কয়জন ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি তাদের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে অন্যতম একজন।

জন্ম: ড. এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম ১৯৪১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবন: পিতা মরহুম আলহাজ্জ্ব মির্জা আব্দুর রশীদ। তাঁরা চার ভাই ও তিন বোন।

শিক্ষা জীবন: ড. এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম সুজানগর উপজেলার খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। ঢাকা কলেজ থেকেও ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ১ম শ্রেণি ২য় স্থান অধিকার করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।
১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর করে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন এবং সেখানকার ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং ইউএসএআইডি থেকে বৃত্তি নিয়ে উইলিয়ামস কলেজ থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

আরও পড়ুন কৃষি বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন

কর্ম জীবন: ড. এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে ‘সিএসপি’ কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন। তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সরকার এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারে একাধিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে পরিচালক, পশ্চিম পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন; উপসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার; জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ এবং যুগ্ম সচিব/অতিরিক্ত সচিব, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার।
ড. ইসলাম ১৯৮২ সালে জাতিসংঘে যোগদান করেন এবং ব্যাংকক ও নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ফর এশিয়া ও প্যাসিফিক (UNESCAP), ব্যাংকক (১৯৮২-১৯৮৭) এর অর্থনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা/সিনিয়র অর্থনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা ছিলেন; চিফ, ডেভেলপিং ইকোনমিস সেকশন, ইউনাইটেড নেশনস সেন্টার অন ট্রান্সন্যাশনাল কর্পোরেশন, নিউইয়র্ক, (১৯৮৭-১৯৯২) এবং ডিরেক্টর, ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ পলিসি অ্যানালাইসিস ডিভিশন, (UNESCAP), ব্যাংকক (১৯৯৩-২০০১)।
জাতিসংঘ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি UNESCAP, UNCTAD, NRP এবং বিশ্বব্যাংক এর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার

তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (২০০২-২০০৫ খ্রি.) ও সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ (২০০৬ খ্রি.) এর চেয়ারম্যান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় (২০০৭-২০০৮ খ্রি.) এর উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ৩০টি কোম্পানি খুঁজে বের করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫ সদস্যের জুরি বোর্ডের আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশের ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতিতে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর।

অবদান: ড. ইসলাম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা থাকাকালীন সময় ২০০৮ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ অবদান রাখেন।

রচনাবলী:

  • Macro economic management in Bangladesh (2015)
  • Macro Economic Policy Implementation In Bangladesh (2019)

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!