জীবনের রঙ
জাহাঙ্গীর পানু
জীবনের কত রঙ কত চাওয়া
হারিয়ে গেছে হায়
না পাওয়ার বেদনায়
অজস্র কান্নার আপ্লূত ধ্বনি
নিঃশব্দেই ফুরিয়েছে
বিরহ চেতনায়।
রুপালী দিনের অফুরান গল্প
স্বযত্নে লালিত সোনালী স্বপ্ন
কত ছন্দের সৃষ্টি হৃদয় গহীনে
ভেবেছে ভাবুক মন
একান্তে নিরালায়।
আচমকা বৈশাখী ঝড়ের আঘাতে
হঠাৎ নিকষ কালো মেঘের গর্জনে
হেনেছে আঘাত হৃদয় মন্দিরে।
মানসীর মায়া ভেসে গেছে হায়,
শ্রাবণের বারিধারায়।
সৃষ্টির সৌন্দর্য্যে অবগাহন করিয়া
দাবানলে পুড়ছে মন জনম ধরিয়া
আবছা দৃষ্টিতে দেখা যায় না কিছু।
নিমিষেই শুকিয়েছে
বেদনার অশ্রু।
ভালোবাসার রংমহলে পড়েনা দৃষ্টি
মায়াবি চোখের কোণে পড়েছে ধুলি।
ফোটেনা মুখের হাসি জোটেনা
মিষ্টি স্বরে পিয়াসী মনের
সুরেলা কথার বুলি।
অব্যক্ত ভালবাসার প্রকাশ।
আঁজলা ভরে দান করেছে নিঃস্বার্থভাবে,
বিরক্তিকর শৈশব কৈশোরের দুরন্তপনায়
কখনো ত্যক্ত বিরক্ত হয়নি
সাধ্যাতীত অপূর্ণ চাহিদার বায়নাগুলো
কখনো বলেনি, “আমি পারবোনা”
চেষ্টা করেছে নিজের যতটুকু আছে
তারমধ্যে থেকে পূরণের জন্য।
নিজের দু’বাহু প্রসারিত করে রেখেছে
সন্তানের অনাগত ভবিষ্যতের স্বার্থক স্বপ্নে।
প্রখর তপ্ত রৌদ্রের দিনগুলোতে
অশ্বথ বৃক্ষের মতো দিয়েছে ছায়া।
আজ সে জীবন সায়াহ্নে
বার্ধক্যের ভঙ্গুর শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা নিয়ে
ব্যথায় কুকড়ে ওঠে আচমকা।
অবুঝ শিশুর মতো তার অসংলগ্ন কথাবার্তা
জীবন সম্পর্কে নতুন করে আমাকে
আবার ভাবতে শেখায়।
পরাজিত সৈনিকের মতো আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে
হাতে রাখে হাত
করযুগলে খামচে ধরে আমাকে,
পতিত হবার আশংকায়।
বিশাল জীবন সংসারের সফল দায়িত্ব শেষে
আজ সে অবসরে, একাকীত্ব সময় পার করে।
জীবনের শেষপ্রান্তে আজ সে এক পরিশ্রান্ত পথিক।
পরমাত্মার সান্নিধ্যে যাবার প্রতিক্ষায়
নিষ্প্রাণ দিন কাটে বিছানায়
ঘরের করিডোরে বসে অপলক চেয়ে থাকে
অনন্তকাল আসবে কখন
সেই প্রতিক্ষায়।
আরও পড়ুন কবিতা-
ঘুরে আসুন আমাদের সুজানগর এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজে
জীবনের রঙ