ইউনিয়ন-মানিকহাট
কবিতা,  মানিকহাট,  সাহিত্য

ইউনিয়ন মানিকহাট

ইউনিয়ন মানিকহাট

এ এফ এম মনিরুল ইসলাম তরুন

 

মানিকহাটে মানিক ভরা, অন্য কোথাও নাই
সকল পেশার মানুষ আছে, জনসংখ্যাও বোঝাই।
সকল বাড়ির ছেলে-মেয়েরাই করে লেখা পড়া
বড় বড় কর্মকর্তা আর ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারে ভরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরপুর, বাজার ঘাটও অধিক
স্কুল কলেজ অনেক আছে, মাদ্রাসাও একাধিক।
একপাশে পদ্মা নদী, অন্য পাশে বিল গাজনা
খাবারে বাহারি বেশ, তরকারিতে খায় ভাজনা।

মানিকহাট বড় গ্রাম, স্কুল সেথা দুইটা
হাই স্কুলের পাশেই আছে, প্রাইমারি স্কুলটা।
গোরস্থানের পাশেই আবার, কওমি মাদ্রাসা
সব প্রতিষ্ঠানেই জনগনের, আছে ভালবাসা।

উলাটে মাদ্রাসা অনেক বড়, অতি পুরাতন
এখান থেকে শিক্ষা নিয়েছে, অনেক গুণীজন।
প্রাইমারী স্কুল আর আলিম মাদ্রাসা
এলাকার শিক্ষা নেয়ার মূল ভরসা।

খয়রান বড় গ্রাম, গুণীজনও আছে
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যায় কিন্তু, আছে বেশ পিছে।
প্রাইমারি স্কুলটা অনেক বড়, বেশ নাম করা
ছাত্র-ছাত্রীতে ভরপুর, শিক্ষকরাও খুব কড়া।

গাবগাছি ছোট্ট গ্রাম, গুণীজনে ভরা
নামি-দামি পরিবার আর ভাবের মানুষ তারা।
গ্রামেতে আছে একটা প্রাইমারি স্কুল
প্রাথমিক শিক্ষায় জীবন গড়ার কারখানা নির্ভুল।

তৈলকুন্ড আর মোমিন পাড়া একসুঁতায় গাঁথা
এখানে মিলন হয়েছে ইউনিয়নের তিন রাস্তার মাথা।
প্রাইমারি খুব নাম ডাক রেজাল্ট খুবই ভালো
প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে, ফুটিয়েছে উচ্চ শিক্ষার আলো।

ইউনিয়নের বড় গ্রাম গুরুত্বটাও বেশ, নাম বনকোলা
হাই স্কুল, গার্লস স্কুল, কলেজ আর দুইটা পাঠশালা।
মসজিদ মাদ্রাসায় ভরপুর, নামকরা হাটবাজার
হাটের দিনে হরেক সামগ্রী, মাছের থাকে বাহার।

ক্ষেতুপাড়ার বেশ গুরুত্ব, ইউনিয়ন পরিষদ সেথায়
মাঝে মধ্যেই পদচারণ হয়, রাজনৈতিক নেতায়।
প্রাইমারির নাম-ডাক আগে থেকেই ছিলো
এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই বড় হলো।

ভিটবিলাতে পিরের বাড়ি, বসবাস হরেক মানুষ জন
প্রতিনিয়ত বাঁধের মোড়ে আড্ডা দেয়, গ্রামের জনগন।
মাদ্রাসা আর প্রাইমারি স্কুল দুটো প্রতিষ্ঠান
নতুন প্রজন্ম শিক্ষা নিয়ে জীবনের ঘটায় উত্থান।

মাছপাড়ায় জ্ঞানী গুণী অনেকেরই ছিলো বাস
মূল গ্রামটি পদ্মায় গ্রাস করে, করেছে সর্বনাস।
গার্লস স্কুল ও প্রাইমারি স্কুল গ্রামের প্রতিষ্ঠান
একাধিকবার এই প্রতিষ্ঠান পদ্মায় দিয়েছে টান।

রাইপুরে বড় হাট, আগের নাম ডাক
মঙ্গলবার হাটে উঠে, গরু ছাগলের ঝাঁক।
প্রাইমারি স্কুল আর আছে মাদ্রাসা
মাদ্রাসাটি হবে বড়, কর্তৃপক্ষের আশা।

মালিফাতে মালি নাই আছে শিক্ষার আলো
সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোটামুটি ভালো।
দুই প্রাইমারি, হাইস্কুল আর কলেজ তিন খানা
ওয়ান থেকে অনার্স পড়া, আদর্শ গ্রামখানা।

নামকরা হাই স্কুল, সাথে প্রাইমারি
এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম, পাশেই ছিল বাড়ি।
অনেক স্মৃতি মনিকোঠায় হৃদয়তে গাঁথা
সেই স্মৃতি মনে হলে, হৃদয়ে লাগে ব্যথা।

গ্রাম মহল্লার আনাচে-কানাচে মসজিদে ভরপুর
ক্রমান্বয়ে বিল্ডিং হচ্ছে, চলছে টিনের চালা ভাঙচুর।
খাল বিল পুকুর নালায় মাঝ ধরছে জেলে
ইলিশ মাছ ধরা যায় পদ্মা নদীতে গেলে।

কৃষি ফসলে ভরপুর কৃষকের কণ্ঠে গান
সখ করে গড়ে তুলেছে কেউ ফলেরও বাগান।
ধান, পাট পিঁয়াজ চাষে অন্যতম সেরা
পদ্মা চরে বাদাম আর গরুর ঘাসে ঘেরা।

সোনার মাটি, সোনার মানুষ, সোনার মাঠ ঘাট
এটাই মোদের অহংকার “ইউনিয়ন মানিকহাট”।

 

আরও পড়ুন কবিতা

আলো আঁধার

নতুন প্রাণের সন্ধানে

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!